সমঝোতা চুক্তি ইরানের আগ্রহ নয়, মার্কিন মরিয়াভাবের ফসল: খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। তবে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি। এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কোনো আগ্রহ নয় বরং আমেরিকার চরম মরিয়াভাবই এই চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
খামেনি লিখেছেন, ‘আপনারা ইতোপূর্বেই অবগত হয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কাজ করলেও, মার্কিন পক্ষই এর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল। সর্বোচ্চ নেতার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই মূলত নিরুপায় হয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে সব ধরনের কৌশল ও সুযোগ ব্যবহার করেছেন।’
এই চুক্তির বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত আপত্তির কথা প্রকাশ করে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল।’ তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের জনগণের অধিকার এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানান।
তিনি মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান তা কখনোই মেনে নেবে না। দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজেকে ‘এক বিনম্র সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর রাখার কথা বলেন।
রাজকীয় ভোজসভায় ঐতিহাসিক স্বাক্ষর
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি নিশ্চিত করে একে ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগমকারী এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চাবিকাঠি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল, তবে জেনেভায় নির্ধারিত সেই বৈঠকটি হঠাৎ করেই স্থগিত করা হয়েছে।
কী আছে এই মার্কিন-ইরান চুক্তিতে?
স্বাক্ষরিত এই দলিলটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’।
চুক্তির মূল শর্তাবলি নিচে দেওয়া হলো:
যুদ্ধবিরতি: লেবাননসহ সব ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অবরোধ প্রত্যাহার: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান উপকূল থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিন সময় পাবে।