ষ্টেশন মাষ্টারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার , রাতে গোপনে অন্যত্র বিয়ে

বিএমএফ টেলিভিশন ডেস্ক || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:০২, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছেন এক তরুণী। তবে নির্ধারিত সমঝোতা বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শ্যামপুর গ্রামের তোফাজ্জল সরদারের ছেলে ওয়ালিফ হোসেনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় একযুগ ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলমান ছিল। সম্প্রতি ওয়ালিফ হোসেন সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে গত ৬ জুন বিয়ের দাবি নিয়ে ওয়ালিফের বাড়িতে অনশন শুরু করেন  ঐই তরুণী। তিনি বলেন,আমাকে দীর্ঘদিন আশা দিয়ে রেখেছে।ছুটিতে বাড়ি আসলে আমাদের বাড়িতেই বেশী সময় থাকতো।নাওয়া, খাওয়া সব চলতো।

ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ৯ জুন উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জয়নুল আবেদীন বৈঠকের বিষয়ে উভয় পক্ষকে অবহিত করলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বৈঠকের দিন তারা ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকলেও এসআই জয়নুল আবেদীন সেখানে আসেননি। এছাড়া তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওয়ালিফ হোসেন বর্তমানে রাজশাহীতে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত থাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী তরুণীর মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিচার চাইতে এসেছি। কিন্তু কোথাও সঠিক সহযোগিতা পাচ্ছি না।”

পরিবারের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় ওই তরুণী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সেটি গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে থানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এইদিকে ১২ জুন শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে অনত্র বিয়ে করে ওয়ালিফ।

ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারসহ সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ালিফ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়নি।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়