মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এবার জেলের পথে তিন পরিবহনকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক | || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:১৯, রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চালক ঝন্টু আলী, সুপারভাইজার আজমল হোসেন ও হেলপার শাকিব হোসেনের পরিবার এবং স্বজনরা দাবি করেছেন, ঘটনাটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা; এটি ইচ্ছাকৃত বা পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়।

তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতে কর্মরত এই তিন ব্যক্তি জীবিকার তাগিদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় চালক ঝন্টু আলী নিজেও বাসের সঙ্গে নদীতে পড়ে যান এবং প্রাণে বাঁচতে সাঁতরে তীরে ওঠেন। পরিবারের দাবি, যদি তিনি বেপরোয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করতেন, তাহলে নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতেন না।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামার সময় নানা ধরনের চাপ ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে উদঘাটন করা প্রয়োজন এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

গ্রেপ্তার সুপারভাইজার ও হেলপারের স্বজনরাও বলেন, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তারা নিজেদের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছেন। কোনো দুর্ঘটনার সময় মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করা। তাই তাদের আচরণকে অপরাধ হিসেবে ব্যাখ্যা না করে ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এদিকে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, আদালতের মাধ্যমে সত্য ঘটনা উঠে আসবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে তারা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়