প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, ৭ ঘণ্টা বন্ধ ছিল হটলাইন

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:২৩, বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল (রেড) টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। পরে টানা সাত ঘণ্টা কাজ করে সংযোগ পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ঈদুল আজহার ছুটির পর অফিস খোলার দিনে সচিবালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, লাল টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বিটিসিএলের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে তারা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন।

বিটিসিএলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কোথাও তার ছিল না।

এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হটলাইন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দারের পাঠানো চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ উঠেছে। নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা দুর্বলতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করার প্রেক্ষাপটে কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টির তদন্তে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়