‎ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পরিবারের মানববন্ধন

‎ইবি প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:২২, শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে এজাহারভুক্ত আসামি ও মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার। এতে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
‎ 
‎শনিবার (৭ মার্চ) কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের (পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে) সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, বড় মেয়ে তাইয়েবা (১১), মেঝ মেয়ে তাবাসসুম (৯), সেঝ ছেলে সাজিদ আবরার (৩) এবং তাদের সর্বকনিষ্ঠ ৬ মাসের ছোট মেয়ে আমেনা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
‎ 
‎এ সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘খুনি ফজলুর ফাঁসি চাই; রক্তখেকো শ্যামসুন্দর-এর ফাঁসি চাই; রক্তখেকো বিশ্বজিৎ এর ফাঁসি চাই; এক দফা এক দাবি খুনিদের ফাঁসি চাই; কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করো; মায়ের কাছে যাবো…..অবুঝ বুশরা; মা হারা আমরা চার ভাইবোন; আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি প্লেকার্ড দেখা যায়। 
‎ 
‎এসময় নিহত শিক্ষিকার বড়মেয়ে বলেন, ‘আমার মা’কে হত্যার বিচার চাই, আমরা তো এতিম হয়ে গেলাম। আমার মাকে যত কষ্ট দিয়ে মারছে তাদেরও যেন তত কষ্ট দিয়ে মারা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মায়ের নামে যেন একটা হল খোলা হয়। তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম তিনি নেই এখন আমার বাবা ও মামাকে চাকরি করতে হবে।’
‎ 
‎ছোট মেয়ে বলেন, ‘আমরা সারারাত ঘুমায় না, আমার মা আমাদের কত আদর করে ঘুমিয়েছে, এখন আমরা মাকে কোথায় পাব? আমার ছোট ভাইটা সারাক্ষণ কাঁদে, মা মা বলে ডাকে। আমার মাকে ফিরিয়ে দিন, যারা আমার মা কে মেরেছে তাদের সবার ফাঁসি দিন।’
‎ 
‎নিহতের স্বামী বলেন, ‘শ্যাম, হাবিব তারা কীভাবে বলতে পারে? একটা দিনও যদি তোমাদের ম্যামের সাথে তারা ভালো আচরণ করে থাকে সেটার সাক্ষ্য দিতে পারবে তারা? চ্যালেঞ্জ করতেছি একটা দিন যদি তারা ভালো আচরণ করে থাকে–পুরো মামলা তুলে নেব। প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে আমাকে ফোন করে বলত, প্রত্যেকে আমার সাথে এতো খারাপ আচরণ করে আমি না শিক্ষক, না চেয়ারম্যান। আমার সাথে পিয়ন থেকে শুরু করে বিশ্বজিত শ্যামের মতো লোক অকথ্য ব্যবহার করেছে। তারা চ্যালেঞ্জ করে আমি এই বিভাগেই থাকব দেখি কার কত ক্ষমতা আছে, তোমরা বলো, তোমরা যদি সত্যি, ন্যায়ের পক্ষে না বলতে পার আমার বিচার দরকার নেই। আমার সন্তান দের দুধ থেকে বঞ্চিত করে রাতের পর রাত প্রশ্ন করেছে খাতা দেখেছে। বলতে পার তোমার ম্যাম চেয়ারম্যানশিপ পাওয়ার আগে একটা ব্যাচ বের হয়েছে কি না? তোমার ম্যাম রাতের পর রাত পরিশ্রম করে তাদের পার করেছে, এই শ্যাম তো তাদেরও পরীক্ষা নিতে চেয়েছিল না।’
‎ 
‎তিনি আরও বলেন, ‘ফজলু যে ফোন ব্যবহার করেছে সেটা আমি কিনে দিয়েছি। তোমাদের ম্যাম যোগদান করার পরে প্রতিটা ঈদ প্রতিটা বছর তাকে টাকা দিত। বার বার বলতো ফজলু কত পরিশ্রম করে আমি যখন পারি যেভাবে পারি যত টুকু পারি ফজলু কে দেওয়ার চেষ্টা করি, তুমি কিছু মনে করো না। ফজলু বেঁচে আছে সে বলতে পারবে সে কত অপরাধ করেছে।’

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়