শশুর কে পিতা বানিয়ে মুক্তিযোদ্বা কোটায় চাকরি

সিফাত, জামালপুর : || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:১৪, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। শ্বশুরকে নিজের পিতা হিসেবে দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত মৌসুমী আক্তার বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV) পদে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, মৌসুমী আক্তারের জন্মদাতা পিতার নাম মোজা সরকার হলেও চাকরির কাগজপত্রে পিতার নাম পরিবর্তন করে আবুল কালাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি তার শ্বশুর বলে জানা গেছে। এভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম উপজেলার ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক নথিতে মৌসুমী আক্তারের পিতা হিসেবে মোজা সরকার এবং মাতা হিসেবে মরিয়ম বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে। মোজা সরকার ও মরিয়ম বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মৌসুমী তৃতীয়। তার প্রকৃত ঠিকানা মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ গ্রাম।

তবে চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে পিতার নাম মোজা সরকারের পরিবর্তে আবুল কালাম এবং মাতার নাম মরিয়ম বেগমের পরিবর্তে রায়হানা বেগম উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানাও পরিবর্তন করে গ্রাম: কোয়ালীকান্দী, ডাকঘর: তেঘরিয়া, থানা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মৌসুমী আক্তার ২০ নভেম্বর ২০১৪ সালে পরিদর্শিকা (FWV) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন করে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তেঘরিয়া কেন্দ্র থেকে এসএসসি এবং তেঘরিয়া শাহেদ আলী কারিগরি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। একই নামে ২০১৩ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে পরের বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি লাভ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নব্যচর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার মোজা সরকারের মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয় কালাম মেম্বারের ছেলে আলমগীরের সঙ্গে। পরে সেই মেয়ে শ্বশুরকে পিতা হিসেবে দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কালাম মেম্বারের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যায়। কিন্তু একজন ব্যক্তি কীভাবে তার শ্বশুরের মেয়ে হন—এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে মৌসুমী আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কোনো কথা থাকলে অফিসে কথা বলুন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুষমিতা দত্ত বলেন,অভিযোগের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তার নিয়োগ আমাদের সময়ে হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আমজাদ দপ্তরী বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়