দিল্লিতে মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৫১, বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিল্লির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) গত ১৯ অক্টোবর মসজিদটিকে 'অননুমোদিত স্থাপনা' আখ্যা দিয়ে ছয় দিনের মধ্যে এটি উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে।

উচ্ছেদের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ৭ অক্টোবর থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে জানা গেছে, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত হালনাগাদ তালিকাতেও রেসকোর্স মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট স্থানটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ২০২১ সালের একটি জরিপেও এটিকে অবৈধ দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, ফলে স্থাপনাটি হঠাৎ অবৈধ ঘোষণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঐতিহাসিক এই মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কিরেন রিজিজু তাদের আবেদন শুনেছেন এবং বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হলেও দিল্লি ওয়াক্‌ফ্ফ বোর্ড সমস্যা সমাধানে বা আইনি পদক্ষেপ নিতে চরম অনীহা দেখাচ্ছে, এমনকি তাকেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।

অন্যদিকে, মসজিদ উচ্ছেদের এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন রেসকোর্স রোড এলাকার বস্তিবাসীদেরও উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট এই উচ্ছেদের অনুমতি দিয়ে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেওরায় তাদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়