সিডনির গ্লেনফিল্ডে জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ার বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব

সিডনি প্রতিনিধি | || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৫, শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

প্রবাসে পিঠার ঘ্রাণে ফিরল বাংলার শেকড়, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য মিলনমেলা সিডনি প্রতিদিন ডেস্ক: প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলল জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির উদ্যোগে সিডনির গ্লেনফিল্ড কমিউনিটি সেন্টারে আজ ১১ জুলাই (শনিবার) দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সিডনির বিভিন্ন উপশহর থেকে আগত ৩৫টি পরিবার এবং তাদের শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবের সেই চিরচেনা বাংলার আবহে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র আল-কোরআন ও গীতা থেকে পাঠের পর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এই পর্ব বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতার এক অনন্য বার্তা বহন করে।

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যতেও এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাধারণ সম্পাদক ডা: সোহেল জুলভী এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী তাঁদের বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।

উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নয় ধরনের পিঠার আয়োজন। ঝাল পুলি, মিষ্টি পুলি, তেলের পিঠা, পাটিসাপটা, মুখ পাকান পিঠা, ভাপা পিঠা, ঝাল পিঠা, দই ও রসগোল্লাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন উপস্থিত অতিথিরা। পিঠার ঘ্রাণ আর দেশীয় স্বাদের সমারোহে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন শৈশবের শীতের সকাল, গ্রামের উঠান আর পারিবারিক উৎসবের।

সকালে পিঠা পরিবেশনের পর দুপুরে সকল অতিথির জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। পারিবারিক পরিবেশে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও আন্তরিক করে তোলে।

মধ্যাহ্নভোজের পর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চারু গানের দল’ দেশাত্মবোধক, লোকজ ও আধুনিক গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপন করে। প্রাণবন্ত সঙ্গীতানুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলো আয়োজকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদই মনে করিয়ে দেয় না, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কাছে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

দিনব্যাপী এ উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এমন আয়োজন প্রমাণ করে—বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও হৃদয়ের গভীরে বেঁচে থাকে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের টান। আর সেই টানই একত্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের, গড়ে তোলে সম্প্রীতি, বন্ধন ও ভালোবাসার এক অনন্য মিলনমেলা।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়