কুশিয়ারার পানির তোড়ে ধসে গেল সড়ক, বিচ্ছিন্ন ১০ গ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:৫৪, শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সীমান্তে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৭ দশমিক ২২ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত পানির চাপে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি পাকা সড়ক ভেঙে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলের দিকে কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ দক্ষিণপাড়-রৌয়াইল সড়কের বালিশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়কটি ভেঙে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির তীব্র চাপে পাকা সড়কটি ভেঙে যায়। এতে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী, রৌয়াইল, হিলালপুর, টেংরাখালি, মেঘেরকান্দি ও হরিনাকান্দিসহ প্রায় ১০টি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

ফলে নিত্যদিনের যাতায়াত ও বাজার-ঘাটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভেঙে যাওয়া সড়কটি মেরামত করে দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার কাজ চলছে।

রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পাকা সড়কটি হঠাৎ পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়ক দিয়েই আমাদের উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন না করলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’

বালিশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রুমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে। এই সড়ক দিয়েই সব ধরনের মালামাল আনা-নেওয়া করা হতো। এখন আমরা পুরোপুরি অবরুদ্ধ।’

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপে পাকা সড়কটি ভেঙে গেছে। দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তারা কাজ শুরু করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে।’

এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, কুশিয়ারা নদী তীরের সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচলের জন্য দ্রুত আপৎকালীন বিকল্প ব্যবস্থা বা সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী জগন্নাথপুরে এলজিইডির একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা পানিপ্রবাহ বন্ধ ও সড়ক যোগাযোগ পুনরায় স্থাপনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ সরবরাহ করেছি। এলজিইডি সেখানে কাজ করছে। নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার পর এই অংশটুকু জরিপ করে তীর রক্ষায় স্থায়ী কাজ করা হবে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়