লেবাননে হিজবুল্লাহর দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। একই সময়ে এসব হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর ‘ব্যাডার ইউনিট’-এর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আবু হাসান আলাকে হত্যা করা হয়েছে।
দখলদার দেশটির দাবি, তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা এবং সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় ভূমিকা রেখেছিলেন।
এর আগে দক্ষিণ লেবাননের আনসার এলাকায় চালানো এক হামলায় হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইসরাইল। দেশটির বাহিনী বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলার জবাবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে হামলাগুলোতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আনসারে একটি বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। দেইর এজ-জাহরানিতে আরও চারজন নিহত হন। সব মিলিয়ে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলো জুনে কার্যকর হওয়া ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা এবং অঞ্চলটিতে সংঘাত আবারও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হিজবুল্লাহ হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।