বাবাকে হত্যা, ভাই নিখোঁজ– ট্রাজেডি থেকে বিশ্বকাপে ইতিহাস আয়মানের

স্পোর্টস ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:০৭, বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের বিপক্ষে ২৯ মিনিটে গোল হজম করে ইরাক। মিনিট দশেক পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে সমতায় ফেরান আয়মান হুসেইন। শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের দলের কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে ইরাক। তবে আয়মানের নামটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা স্ট্রাইকার অবশ্য এতদূর এসেছেন ভয়াবহ ট্রাজেডি পেছনে রেখে।

২০০৮ সালে আয়মানের বয়স ছিল ১২ বছর, ওই সময় তার বাবা বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী কিনতে যাওয়ার পথে আল-কায়েদা সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য। এর কয়েক বছর পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতার মাঝে অপহৃত হন আয়মানের বড় ভাই। পরবর্তীতে তার আর খোঁজ মেলেনি।

পরিবারের কঠিন সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে ইরাকি এই তারকা স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘পরিবারের দেখাশোনা করার লক্ষ্যে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মা রাজি হননি।’ বরং আয়মানকে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে উৎসাহ দিয়েছেন তার মা। যে স্বপ্ন তাকে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার ইরাককে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। এরপর গোল করলেন বিশ্বকাপের অভিষেকে।

সেটাই শেষ নয়, ৩০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথেও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আয়মানকে সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে অনুমতি না পাওয়ায় নিজ দেশে ফিরতে হয়েছে ইরাক দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে।

ইরাকের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আয়মান হুসেইনের অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। অস্থিরতার মাঝেও ওই সময় ফুটবলই সাধারণ মানুষের মাঝে ঐক্য ও সাময়িক স্বস্তির মুহূর্ত এনে দিতো। আয়মান ২০২৩ সাল থেকে মেসোপটেমিয়ার লায়ন্স নামে পরিচিত ইরাকি ক্লাবের ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। হেডের মাধ্যমে গোল এবং বক্সের ভেতর তার নিখুঁত শট নেওয়ার দক্ষতাও পরিচিত করিয়েছে আয়মানকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ঐতিহাসিক অভিযানে তিনি ইরাকের সেরা পারফর্মার ছিলেন, করেন ১২টি গোল।

নরওয়ের বিপক্ষে দলের একমাত্র গোলটি আয়মানের স্মরণীয় হলেও, তাকে হতাশায় ডোবায় নিজেদের জালে করা আত্মঘাতী গোলের জন্য। তবে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের কাছ থেকে, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে বক্সের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুবই খুশি ও গর্বিত। মৌসুমে তার বেশ কিছু চোট ছিল। এরপরও এত শক্তি নিয়ে ৯০ মিনিট খেলা এবং গোল করা অসাধারণ ব্যাপার।’


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়