ইটিভির কুরআনিক জিনিয়াসে দেশসেরা ইবির দুই শিক্ষার্থী, হলেন চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ
ইবি প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
দেশের প্রথম কুরআনভিত্তিক মেগা রিয়েলিটি শো ‘কুরআনিক জিনিয়াস’ সিজন-১ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল হুসাইন সারজিল। একই প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছেন একই বিভাগের মাস্টার্স (২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ইহছান ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। প্রফেসর মোখতার আহমেদের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় কুরআনের জ্ঞানভিত্তিক এই ব্যতিক্রমধর্মী রিয়েলিটি শোটি একুশে টেলিভিশনে (ইটিভি) পবিত্র রমাদান মাসজুড়ে প্রতিদিন রাত ১০টায় প্রচারিত হয়েছে।
জানা যায়, সারা দেশ থেকে অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে এমসিকিউ, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই শেষে টেলিভিশন রাউন্ডের জন্য ৩০ জন প্রতিযোগী নির্বাচিত হন। ছয়টি প্রতিযোগিতামূলক রাউন্ড শেষে গ্র্যান্ড ফিনালে পাঁচজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে চূড়ান্তভাবে বিজয়ীদের নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রথম তিনজনের জন্য পবিত্র বায়তুল্লাহে উমরাহ পালনের সুযোগসহ যথাক্রমে ৩ লক্ষ, ২ লক্ষ ও ১ লক্ষ টাকা প্রাইজমানি নির্ধারিত ছিল। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবুল হুসাইন সারজিল অর্জন করেন ৩ লক্ষ টাকা ও উমরাহর সুযোগ, আর রানার আপ আব্দুল্লাহ ইহছান ভূঁইয়া পান ২ লক্ষ টাকা ও উমরাহ পালনের সুযোগ। দ্বিতীয় রানার আপ হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাসনুন তাহসিফ।
প্রতিযোগিতায় কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেগমেন্টে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিল, শানে নুযুল, কুরআনের ঘটনা, তাদাব্বুরে কুরআন, কুরআনের শপথ ও উপমা এবং কুরআনের দোয়া।
রানার আপ আব্দুল্লাহ ইহছান ভূঁইয়া বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমি এই সাফল্য অর্জন করেছি। প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাইনি; পূর্বের পড়াশোনার ভিত্তিতেই অংশগ্রহণ করেছি। বিশেষভাবে দোয়া করেছি যেন আল্লাহ আমাকে উমরাহ বিজয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করেন, আলহামদুলিল্লাহ তিনি তা কবুল করেছেন।”
চ্যাম্পিয়ন আবুল হুসাইন সারজিল বলেন, এই অর্জন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কুরআনের সাথে দীর্ঘ সময় কাটানো, পরিশ্রম, দোয়া ও নিরলস প্রচেষ্টার এক অপূর্ব প্রতিদান তিনি পেয়েছেন বলে অনুভব করেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত নয়; বরং শিক্ষক, পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযাত্রীদের দোয়া ও ভালোবাসার সম্মিলিত ফল।