হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘সবচেয়ে তীব্র’ সামরিক অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:৩৩, বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম এবং হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালিয়েছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান মাইন বসাতে শুরু করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত খুব সীমিত পরিসরে মাইন বসানো হয়েছে। তবে ইরানের হাতে এখনো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে দেশটি দ্রুত কয়েক শ মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়ে থাকে, তবে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় দেশটিকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এর পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে। সেন্টকম পরে দাবি করে, ওই এলাকায় ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝুঁকির কারণে অনেকেই এ পরিস্থিতিকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকার সঙ্গে তুলনা করছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পারাপারে নৌবাহিনীর সরাসরি পাহারা দেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত নৌযান মোতায়েন রয়েছে এবং মাইন শনাক্তে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি তাদের হাতে আছে।

অন্যদিকে আরব সাগরে মাইন ধ্বংসে সক্ষম অবসরে পাঠানো অ্যাভেঞ্জার শ্রেণির কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ডিভাস্টেটর, ইউএসএস ডেক্সট্রাস, ইউএসএস গ্ল্যাডিয়েটর ও ইউএসএস সেন্ট্রি—বাণিজ্যিক জাহাজ ‘সিওয়ে হক’-এর সঙ্গে করে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তর উপকূলে একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সন্দেহজনক একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে রাস আল খাইমাহ উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়