যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তার গুলিতে নারীর মৃত্যু, রাজপথে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:১০, রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

তীব্র ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

তীব্র ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) শহরটিতে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ায় হাজার হাজার বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হওয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতারা ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘটনার ব্যাখ্যায় একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

মিনিয়াপোলিস শহরটিতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের বসবাস। সেখানকার বিক্ষোভকারীরা আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের নেতৃত্বে মিছিল করে সেই আবাসিক সড়কের দিকে যান, যেখানে নিজের গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রেনে গুড।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের হিসাবে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার। তারা রেনে গুডের নাম ধরে স্লোগান দেন ও ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস- গেট আইস অব আওয়ার স্ট্রিটস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভকারী এলিসন মন্টগোমারি (৩০) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ, আমার পুরোপুরি হৃদয়ভাঙা ও বিধ্বস্ত। একই সঙ্গে ভেতরে একটা আশা কাজ করছে যে, কিছু একটা ভালো হবে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এই গুলির ঘটনাকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার দিক থেকে সরে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় গুলি চালানো হয়।

তবে আইসের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালান। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, গুড গাড়িটি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। এর আগে আরেক আইস কর্মকর্তা চালকের পাশের দরজার কাছে গিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন।

বুধবারের এই গুলির ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান বলে দাবি করেছে। এর ফলে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

অন্যান্য রাজ্যেও উত্তেজনা
ঘটনার পর দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে এক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গাড়ি থামানোর চেষ্টার সময় একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে আহত করেন। মিনিয়াপোলিসের ঘটনার মতোই ভাষা ব্যবহার করে ডিএইচএস জানায়, চালক গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

এই দুটি গুলির ঘটনার পর ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) মতো প্রগতিশীল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে শনিবার (১০ জানুয়ারি) ও রোববার (১১ জানুয়ারি) দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি কর্মসূচির ডাক দেয়। সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সব সমাবেশ সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভকারীরা সিটি হল থেকে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে মিছিল করেন। সেখানে তারা ‘আইসকে চলে যেতে হবে’ ও ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করেন, যেখানে শুনানির পর অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, আমরা রেনের জন্য বিচার চাই, আমাদের সমাজ থেকে আইসকে বের করে দিতে চাই ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। যথেষ্ট হয়েছে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়