পানির কারণে বিলম্ব বউলাই নদী রক্ষা প্রকল্পে, এক মাস সময় চান এলাকাবাসী
মোঃ আশিক মিয়া আটপাড়া নেত্রকোনা প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার ২নং শুনই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড গোয়াতলা গ্রামে বউলাই নদী ভাঙন রোধে চলমান প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার ২নং শুনই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড গোয়াতলা গ্রামে বউলাই নদী ভাঙন রোধে চলমান প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বউলাই নদীতে ভাঙন প্রতিরোধে মোট ২৫০ মিটার ও ১০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নদীতে পানি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান,
“নদীতে অতিরিক্ত পানি থাকায় এবং জলমহলের ঘাট বন্ধ থাকায় কাছাকাছি স্থান থেকে বালু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বালু এনে কাজ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।”
এদিকে নদী ভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে ২নং শুনই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রকিব হোসেন সান্জু বলেন,
“ইতোমধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচশ’ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া আরও আনুমানিক পাঁচশ’ পরিবার এখনো নদীর পাড়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন পার করছে। ২৫০ মিটার কাজের বরাদ্দে অন্তত ৫০০ পরিবার নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়েছিল। কিন্তু কাজ বিলম্ব হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দিতে বলায় এলাকাবাসী চরম হতাশ হয়ে পড়েছে। আমাদের একটাই দাবি—আর কিছুদিন সময় দেওয়া হোক।”
এলাকাবাসীরা জানান, বউলাই নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন না হলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, এই অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের নিকট বিশেষভাবে আবেদন জানানো হচ্ছে—যেন প্রকল্পটির জন্য আরও অন্তত এক মাস সময় বাড়িয়ে কাজটি সম্পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সময় বাড়ানো হলে চলমান কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে এবং শত শত পরিবার নদী ভাঙনের ভয় থেকে রক্ষা পাবে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও মানবিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে গোয়াতলা গ্রামের মানুষ।