এআই দিয়ে তৈরি ছবি কীভাবে চিনবেন, জেনে নিন ৬টি লক্ষণ

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:৪৫, বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি এখন অনলাইনের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুগল ইমেজ সার্চ, পিন্টারেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে এ ধরনের ছবি। এআই-নির্ভর নিম্নমানের বা অতিরিক্ত কনটেন্টের বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে, এর জন্য ‘এআই স্লপ’ নামে নতুন একটি শব্দও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব ছবি ও এআই-তৈরি ছবির পার্থক্য করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ইমেজ জেনারেটর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। তাই অনলাইনে কোনো ছবি দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করা জরুরি।

১. লেখায় অস্বাভাবিকতা খুঁজুন

এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো ছবির ভেতরের লেখা পরীক্ষা করা। পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, সাইনবোর্ড, টি-শার্ট কিংবা বিজ্ঞাপনের লেখাগুলো যদি বিকৃত, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা অর্থহীন মনে হয়, তাহলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও আধুনিক এআই আগের চেয়ে ভালোভাবে লেখা তৈরি করতে পারে, তবুও ছোটখাটো ভুল অনেক সময় থেকে যায়। তাই সন্দেহজনক কোনো ছবির লেখা জুম করে দেখা কার্যকর হতে পারে।

২. হাত ও শরীরের গঠনে নজর দিন

মানুষের হাত ও আঙুল তৈরি করতে এআই দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় পড়ে। ফলে কোনো ছবিতে অতিরিক্ত আঙুল, জোড়া লেগে থাকা আঙুল, বিকৃত নখ বা অস্বাভাবিক গাঁট দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

শুধু হাত নয়, কবজি, কনুই, ঘাড়, পা কিংবা শরীরের অনুপাতও খেয়াল করুন। চোখ, নাক ও দাঁতের গঠন অস্বাভাবিক হলে সেটিও এআই-তৈরি ছবির ইঙ্গিত হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা

অনেক সময় ছবির মানুষটিকে এতটাই নিখুঁত দেখায় যে সেটি বাস্তব মনে হলেও ভেতরে অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত মসৃণ ত্বক, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল চোখ, অত্যন্ত নিখুঁত চুল কিংবা অস্বাভাবিকভাবে সাজানো দাঁত এ ধরনের ছবির সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

ছবির মানুষটিকে যদি বাস্তবের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত মনে হয়, তাহলে সেটি এআই-তৈরি হতে পারে।

৪. সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখালে

খাবার, পণ্য বা বিজ্ঞাপনের ছবিতে অনেক সময় এআই ব্যবহার করা হয়। কোনো খাবার যদি অবিশ্বাস্য রকম নিখুঁত দেখায়, কোথাও দাগ, ছোপ বা স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা না থাকে, তাহলে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাস্তব ছবিতে সাধারণত আলো, ছায়া, তেল বা অন্যান্য ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা থাকে। এআই-তৈরি ছবিতে এসব অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখা যায়।

৫. অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা বা অস্বাভাবিক বিস্তারিত

এআই-তৈরি ছবিতে কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উপাদান যুক্ত করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিক নকশা, অসম্ভব কোণে ছায়া, বাস্তবতার সঙ্গে না মেলা প্রতিফলন কিংবা অস্বাভাবিক আলোর ব্যবহার এমন ছবির বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

অনেক সময় পুরো ছবিটিই এমন মনে হয়, যেন একসঙ্গে অনেক কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত নাটকীয়তা এআই ব্যবহারের ইঙ্গিত দিতে পারে।

৬. সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যাওয়া

এআই দিয়ে পুরোনো ছবি রঙিন করা বা উন্নত করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিবরণ হারিয়ে যায়। ভবনের ইটের গাঁথুনি, গাছের পাতার আলাদা বৈশিষ্ট্য বা পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ফলে ছবিটি বাস্তব আলোকচিত্রের পরিবর্তে আঁকা ছবির মতো দেখাতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।  

শুধু চোখের পর্যবেক্ষণ নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টুল ব্যবহার করেও ছবি যাচাই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সার্কেল টু সার্চ’ কিংবা গুগল লেন্সের ‘অ্যাবাউট দিস ইমেজ’ ফিচার ব্যবহার করে ছবির উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

এ ছাড়া গুগলের জেমিনি অ্যাপেও ছবি আপলোড করে সেটি এআই-তৈরি কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্কযুক্ত ছবির ক্ষেত্রেও কিছু টুল সহায়তা করতে পারে।  

ডিটেক্টর কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এআই ইমেজ ডিটেক্টরই শতভাগ নির্ভুল নয়। অনেক সময় এআই-তৈরি ছবিকে বাস্তব ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়, আবার বাস্তব ছবিকেও ভুলভাবে এআই-তৈরি বলে দেখানো হতে পারে।

তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু ডিটেক্টরের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ছবির উৎস, প্রেক্ষাপট এবং ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্যও পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে সংবাদ, ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছবির ক্ষেত্রে মূল উৎস যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়