মেহেরপুরে ভাগচাষির ধান মাঠেই নষ্টের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু বিচার দাবি
মেহেরপুর প্রতিনিধি: || বিএমএফ টেলিভিশন
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাইপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ ভাগচাষি প্রতিপক্ষের বাধার কারণে মাঠে কাটা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাইপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৭১ বছর বয়সী ইউসুফ আলী লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের বিল মাঠের এক বিঘা জমি ভাগে নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন।
তিনি বলেন, গত ৮ মে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে জমির ধান কাটতে গেলে প্রতিবেশী ইকরামুলের ৫ থেকে ৬টি গরু তার ধানক্ষেতে ঢুকে ধান খেতে শুরু করে। এ সময় তার ছেলে মো. সেকেন্দার আলী সেন্টু গরুগুলো তাড়িয়ে দিলে ইকরামুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইকরামুলের ডান চোখে আঘাত লাগে।
এ ঘটনার জেরে ইকরামুল গত ১৩ মে আদালতে ইউসুফ আলী ও তার ছেলে সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে ২৩ মে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত ইউসুফ আলীকে জামিন দেন এবং তার ছেলে সেকেন্দার আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইউসুফ আলীর অভিযোগ, মামলা চলাকালীন সময়ে কাটা ধান মাঠে গাদা করে রাখা ছিল। পরে তিনি শ্রমিক নিয়ে ধান মাড়াই করতে গেলে ইকরামুলের ভাই ওয়াসিম আলী এবং তাদের চাচা ভুলু বাধা দেন। তারা ধান মাড়াই করতে না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ধান মাড়াইয়ের মেশিনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও তিনি মাঠে থাকা ধান বাড়িতে আনতে পারেননি। দীর্ঘদিন মাঠে পড়ে থাকায় ধানের স্তূপে নতুন চারা গজিয়ে গেছে এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ মণ ধান নষ্ট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত ইউসুফ আলী বলেন, “আমি একজন অসহায় বৃদ্ধ মানুষ। অন্যের জমি ভাগে নিয়ে চাষাবাদ করি, বর্তমানে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। এই ধান আমার পরিবারের খাদ্যের পাশাপাশি দেশেরও সম্পদ ছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাবে সেই ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।”
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।