জেলা আহ্বায়ককে ‘অযোগ্য’ বলায় এনসিপি নেতাকে শোকজ

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:৫৯, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর ফারুককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেনী জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজাউদ্দিনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।

ওমর ফারুক সম্প্রতি তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখেন, আমাদের জেলা এনসিপিতে অযোগ্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সংগঠন চালানোর অভিজ্ঞতা নাই, নাই কোনো মুরোদ, আছে শুধু একটা পদ, যার নাম আহ্বায়ক। দয়া করে কমিটির এসব অযোগ্য, কোরামবাজ লোকজনকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে যোগ্য সংগঠকদের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হোক।

একই পোস্টের কমেন্টে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতকে উদ্দেশ্য করে ফারুক লেখেন, ‘ভাই, দয়া করে আপনি উনাকে নিঃশর্তভাবে আর কোনো সাপোর্ট দিয়েন না। উনি আপনার নাম বিক্রি করেই ফেনী জেলা এনসিপিকে অস্থিতিশীল করে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে দাগনভূঞা কেন্দ্রিক একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে দাগনভূঞায় এনসিপি এখন পর্যন্ত কোণঠাসা। বর্তমানে উনি জেলা এনসিপিকে যা করে রাখছে, এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতেই এক বছরের বেশি সময় লাগবে। আপনাকে বিষয়গুলো নিয়ে ইনবক্স করেছি, এএসএম সুজাউদ্দিন ভাইকেও বলেছি। দুঃখজনকভাবে আপনারা সিন করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এরপরও সিফাত ভাই ফেনীতে এসে বিষয়গুলোর সমাধান না করে উলটো তাদের সঙ্গে বসার অর্থ হচ্ছে আমাদের উপেক্ষা করা, ফেনী জেলা এনসিপির কণ্ঠকে তুচ্ছ করে দেখা। আপনাদের এসব পদক্ষেপ-অপদক্ষেপ ফেনী জেলা এনসিপির জন্য অশনিসংকেত।’

দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে শোকজ নোটিশ জারি করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ফেনী জেলা এনসিপির ৬৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে জাহিদুল ইসলাম সৈকতকে আহ্বায়ক এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিককে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়