প্রতিশোধস্পৃহ নারীকেন্দ্রিক ‘কুইনস’ সিরিজে মিমি
বিনোদন ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
এবার টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর ওটিটি সিরিজ 'কুইনস' মুক্তি পেয়েছে। সদ্য হইচইয়ে মুক্তি এ সিরিজটির প্রেক্ষাপট নারীকেন্দ্রিক। প্রতিশোধের গল্প সাজিয়েছেন পরিচালক নির্ঝর মিত্র।
এক নারীর নেতৃত্বে আরও তিন নারীর জীবন-সংগ্রামের গল্প নিয়েই ‘হইচই’ প্ল্যাটফর্মে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কুইনস’। নারীর হাতে তরবারির বদলে চার নারীর পরনে অদৃশ্য যুদ্ধসাজ। প্রতিহিংসা, পারিবারিক শত্রুতা, ক্ষমতায়নের ছকে ‘কুইনস’-এর প্লট তৈরি করেছেন পরিচালক নির্ঝর মিত্র।
নারী অবলা নয়। নারীরা চাইলেই অসাধ্য সাধন করতে পারে। নারীর বদলার গল্প ‘কুইনস’-এ খুনের পর খুন। বদলা সবসময় গান্ধীগিরিতে নয়, ইটের বদলে পাটকেল কিংবা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতোই হওয়া উচিত তা বুঝিয়ে দেয় এ সিরিজ।
‘কুইনস’ মীরা নিজেকে সেভাবেই তৈরি করেন। শত্রুপক্ষের চালেই শত্রু বিনাশ করে বাজিমাত করেন মীরা। নীলমণি মিত্রের খলচরিত্রে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বেশ ভালো। দুর্বার শর্মার অভিনয় ছাড়া ‘ভোলা’ চরিত্রটি ভাবা যেত না। নেগেটিভ চরিত্রে অর্ণ মুখোপাধ্যায় অভিনয় গুণে তার চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।
স্বল্প পরিসরে ‘লেপচা’র ভূমিকায় অরিজিৎ দত্ত যথাযথ। সিরিজে ব্যবহৃত র্যাপটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। গল্পের সঙ্গে মানানসই। মূক চরিত্রে নজর কেড়েছেন পায়েল দে। আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। তবে অনেক দিন পর বৈশাখী মার্জিতকেও ভালো লেগেছে। নারী পাচার, রাজনীতির চোরাস্রোত, খুনসহ একাধিক অপরাধমূলক ঘটনাবলির সিরিজ ‘কুইনস’। সব মিলিয়ে বেশ টান টান কাহিনি এবং অভিনয়ে উপভোগ্য ‘কুইনস’। বুদ্ধিদীপ্তভাবে সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের আগাম ঝলক দিয়ে রেখেছেন পরিচালক।
জানা গেছে, গল্পের প্রেক্ষাপট পাহাড়ঘেরা ‘সাহেববাড়ি’। কিন্তু সেই সুন্দর মনোরম পরিবেশে মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরির মাঝেই ওঁৎ পেতে রয়েছে বিপদ। একের পর এক খুনে রক্তে ভেজা সাহেববাড়ির মাটি। পরিচালক নির্ঝর মিত্র এবং মিমি চক্রবর্তী দুজনেরই শেকড় উত্তরবঙ্গে। তাই দুজনেই যেন চেনা পিচে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। গল্পের বাঁধুনি যেমন টান টান, ঠিক তেমনই পরিচালনাও বেশ ভালো। অনবদ্য অভিনয়ে ‘কুইনস’-এর তাজ মিমির মাথায়।
এক রাতেই খুন হন পরিবারের চার পুরুষ সদস্য। এ ঘটনায় চার স্বামীহারা অসহায় নারী একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠেন। অভিজাত বাড়ির ছোট ছেলের বউভাত বলে কথা। জাঁকজমকের অভাব নেই। চারদিকে আলোর রোশনাই। অতিথিদের ভিড়। এরই মাঝে গুলির শব্দ।
রিসেপশনের আনন্দ নিমেষে বদলে যায় শোকের আবহে। সেই রাতেই নববধূর চোখের সামনে একের পর এক গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় তার বর। হাতের মেহেন্দির রঙ ফিকে হওয়ার আগেই সেই হাতে স্বামীর শ্রাদ্ধ করে সন্তানসম্ভবা মীরা। এই চরিত্রে মিমি চক্রবর্তী নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন। মিমির বেশ কিছু এক্সপ্রেশন অনবদ্য।