যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় কার লাভ? ব্যাখ্যা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা ও শান্তি চুক্তিকে ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, চুক্তির প্রতিটি ধারা ও শর্ত ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে রয়েছে এবং এর সুফল খুব শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রতিটি বিধান গভীর আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের পক্ষে। কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জনগণের সামনে দৃশ্যমান হবে।’
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কাতারে জব্দ থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইরানি তহবিল তেহরানের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ ফেরত পাওয়া ইরানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক অর্জন বলে মনে করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্যও উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার শুরুতে যেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেসবের অনেকগুলোই ইরানের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তার দাবি, চুক্তি ইরানের অবস্থানকে দুর্বল না করে বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করেছে।
আসন্ন সুইজারল্যান্ড বৈঠক প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে পেজেশকিয়ান বলেন, এই সমঝোতার ফলে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ব্যক্তি হবেন নেতানিয়াহু। তার মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি ছিল— ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চায় না এবং এ অবস্থান ধর্মীয় নির্দেশনা ও রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রতিশ্রুতিকে লিখিতভাবে চেয়েছিল এবং ইরান তা নথিভুক্ত করে সম্মতি দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ সমঝোতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য নতুন দফার বৈঠকে এসব ইস্যু আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। তহবিল মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং পারমাণবিক ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা গেলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।