নওগাঁর মান্দায় চোর সন্দেহ এক যুবককে পিটি হত্যা
সোহেল রানা নওগাঁ || বিএমএফ টেলিভিশন
নওগাঁর মান্দায় একটি মাদ্রাসায় চোর সন্দেহে আটক করে মারধরের পর রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক তাকে চোর সন্দেহে আটক করে। এ সময় তাকে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভোরের দিকে তিনি মারা যান। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সকালে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তবে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করাই আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তুু এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, স্থানীয় লোকজনের মারধরেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তিকে মারধরের পর ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাসুদ রানা জানান, প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চোর সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি নিজে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।"
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার যদি মামলা দায়ের করে তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।