আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে উপস্থাপন, তীব্র আপত্তি বাংলাদেশের

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:৫৫, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নামকরণকে মিয়ানমারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল এবং ‘হাইপার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে। তাদের একটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভাষা রয়েছে। তাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করা মূলত ২০১৬-১৭ সালের জেনোসাইড ও নৃশংসতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।

মিয়ানমার দাবি করেছিল যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ লাখ মানুষ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও হাস্যকর উল্লেখ করে বলেছে, সে সময়ের জনশুমারি বা কোনো ঐতিহাসিক দলিলে এর প্রমাণ নেই। বরং উন্নত জীবিকার সুযোগহীন রাখাইনে মানুষের স্থায়ীভাবে বসবাসের যুক্তিও অসার।

১৯৭৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমারের আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকার করা হলেও এখন তাদের রাষ্ট্রহীন করার জন্য নাগরিকত্ব আইন (১৯৮২) ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে যে, রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি না করে এবং মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে মিয়ানমার গত আট বছর ধরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার এবং রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী সকল পক্ষকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়