পাবনায় নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অন্যতম মাধ্যম কুমড়া বড়ি উৎপাদন।
বুলবুল হাসান, পাবনা জেলা প্রতিনিধি : || বিএমএফ টেলিভিশন
নারীদের কর্মসংস্থান,অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে পাবনায় কুমড়া বড়ি উৎপাদন। স্বাদে ও পুষ্টিগুনে অনন্য মুখরোচক এই পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে উৎপাদন। এতে পরিবর্তন হচ্ছে গ্রামীণ পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা। পাবনায় উৎপাদিত কুমড়া বড়ি এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মুল্যে। যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।
নারীদের কর্মসংস্থান,অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে পাবনায় কুমড়া বড়ি উৎপাদন। স্বাদে ও পুষ্টিগুনে অনন্য মুখরোচক এই পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে উৎপাদন। এতে পরিবর্তন হচ্ছে গ্রামীণ পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা। পাবনায় উৎপাদিত কুমড়া বড়ি এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মুল্যে। যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন,
(বিসিক) কার্যালয় পাবনার তথ্যানুযায়ী জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় কয়েক হাজার পরিবার বাণিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ি উৎপাদন শিল্পের সাথে জড়িত। চাটমোহরের ফৈলজানা, দোলং, রামনগর, মথুরাপুর, বোঁথর, কুমারগাড়া, হান্ডিয়াল ও পৌর এলাকার হাজারের অধিক পরিবার কুমড়া বড়ি তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ফরিদপুরের ডেমরা,ডেমরা মধ্যপাড়া, রতনপুর ও পাথার এলাকা সহ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামগুলোতে তৈরি হয় বড়ি। একইভাবে সাঁথিয়া, সুজানগর ও সদর উপজেলার গ্রামগুলোতেও শীতের শুরু থেকেই বড়ি বানানোর কাজ শুরু হয়।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শীতের পুরো সময় জুড়ে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গৃহবধূরা কুমড়া বড়ি বানানোর কাজ করেন। বাড়ির ছোটবড় সবাই এতে হাত লাগান। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিদিনই বড়ি বানান কারিগররা। ৮০০-৯০০ গ্রাম ডাল, কিছু কালোজিরা ও পাকা কুমড়া দিয়ে তৈরি হয় এক কেজি কুমড়া বড়ি। এরপর এগুলো কাপড়ে বসিয়ে দুই থেকে তিন দিন শুকানোর পর বিক্রি উপযোগী হয়।
এ্যাংকর ডাল দিয়ে তৈরি এক কেজি বড়ি তৈরিতে এবছর খরচ পড়ছে ৬০-৭০ টাকা। মেশিনে ডাল পেস্ট করলে খরচ ১০ টাকা বাড়ে। আর এসব বড়ি কারিগররা পাইকারী বিক্রি করেন ৯০-১১০ টাকায়। পাবনায় তৈরি এসব বড়ি শুধু জেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব বড়ি সরবরাহ করা হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাঠানো হয় প্রবাসী স্বজনদের কাছেও। এভাবেই তরকারিতে অতিরিক্ত স্বাদ বৃদ্ধির এ রসনা পণ্য বিস্তৃতি পাচ্ছে দেশজুড়ে। এতে বাড়তি আয়ে স্বচ্ছলতা বাড়ছে গ্রামীণ পরিবারগুলোতে।
স্বাদে অনন্য হওয়ায় তরকারিতে অনেকের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান এই কুমড়া বড়ি'র। মাছের ঝোল কিংবা সবজির লাবড়া কয়েকটা কুমড়া বড়ি দিলে এর স্বাদ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তরকারি রান্নায় বাড়তি স্বাদের জন্য বাঙালির খাদ্য ঐতিহ্যের অংশ হয়েছে এই বড়ি। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় দামও মিলছে বেশ। তাই শীতের আমেজের শুরুতেই পাবনার গ্রামগুলোতে ধুম পড়ে কুমড়া বড়ি বানানোর। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বল্প ব্যয় ও পরিশ্রমে বাড়তি আয়ের জন্য অনেকেই বাণিজ্যিকভাবেও বানাচ্ছেন কুমড়া বড়ি। এ কাজে নারীদের সাহায্য করছেন পুরুষরাও। উৎপাদিত কুমড়া বড়ি থেকে প্রাপ্ত বাড়তি আয়ে পরিবারে ফিরছে স্বচ্ছলতা, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও।
ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা মধ্যপাড়ার রহিমা বেগম বলেন, ‘শেষ রাতে উঠে সকাল পর্যন্ত কাজ করলে মণ খানেক বড়ি বানানো যায়। স্থানীয় বাজারগুলোতে পাইকারী ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কেজিতে ২০-৩০ টাকা লাভ হয়।
চাটমোহরের একজন কুমড়া বড়ি উৎপাদনকারী বলেন, ‘এই গ্রামে আমরা ৪০ বছর ধরে বড়ি তৈরি করে আসছি। আগে পাটায় ডাল পিষতে হতো। এখন অনেকেই মেশিনে সেই কাজটি করে। কষ্টসাধ্য হলেও এখান থেকে আমাদের ভালোই আয় হয়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন,পাবনা বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক শামীম হোসেন বলেন, কুমড়া বড়ি বিক্রয় বিপননে পারদর্শী করে তুলতে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কুমড়া বড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে জেলা বিসিকের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। উদ্যোক্তারা চাইলে স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে।