চট্টগ্রাম বন্দরে এলো মার্কিন ভুট্টার বিশাল চালান, খালাস শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:১৪, বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ভুট্টার প্রথম চালান। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীরে ‘এমভি বেলটোকিও’ জাহাজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভুট্টা খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম মার্কিন শস্যের কোনো বড় চালান বাংলাদেশে এলো।

দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ভুট্টার প্রথম চালান। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীরে ‘এমভি বেলটোকিও’ জাহাজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভুট্টা খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম মার্কিন শস্যের কোনো বড় চালান বাংলাদেশে এলো।

নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটায় উৎপাদিত প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা নিয়ে আসা এই চালানটি বাংলাদেশের পশুখাদ্য খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন’ (ইউজিসি) এই ভুট্টা পাঠিয়েছে।

ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। এ উপলক্ষে ঘাটে আয়োজিত ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তিনটি প্রধান পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

এরিন কোভার্ট অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এখানে এসে আমি খুব খুশি। ঐতিহাসিক দিন আজ। বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করে চলেছি।

এটা ভুট্টার প্রথম শিপমেন্ট। ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে এসব ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার ভুট্টা এলো বাংলাদেশে। প্রতিবছর ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ভুট্টা আসবে। ভুট্টার মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব ভুট্টা রপ্তানি করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)।

বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিন কোম্পানি নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ (১০ হাজার টন), প্যারাগন গ্রুপ (১৯ হাজার টন) এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড (২৯ হাজার টন) ভুট্টা আমদানি করেছে।

এমভি বেলটোকিও নামের একটি জাহাজে করে এসব ভুট্টা ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ছোট আকারের (লাইটার) জাহাজে করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয় এসব ভুট্টা।

বুধবারের অনুষ্ঠানে যে লাইটার থেকে ভুট্টার চালান খালাস উদ্বোধন করা হয়, সেখানে আড়াই হাজার টনের মতো ভুট্টা আছে।

অনুষ্ঠানে নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে আমরা ভুট্টার চাহিদা মেটাতে পারব। বাংলাদেশে চাহিদার ৩০ শতাংশ আমাদের দেশীয় ভুট্টার মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘তিন মাস আগে আমেরিকা থেকে কিনতে হয়। আনতে সময় লাগে ৪৫ দিন। বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত পেতে চায় বলে আগে ভারত, ব্রাজিল থেকে আনা হতো। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের লোডিং পয়েন্টে হেল্প করেছে, যেন দেরি না হয়। এই চালান জাহাজে আসতে ৪৬ দিন লেগেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম প্রায় কাছাকাছি। ব্রাজিল থেকে আনলে প্রায় একই দাম। যেহেতু সম্পর্ক এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগলেও আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনব। প্রতি টনের দাম পড়েছে ২৪৬ ডলার।’
 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়