কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জুড়ে স্বাস্থ্য খাতের চিত্র গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি,অব্যবস্থাপনার মধ্যে চলছে কার্যক্রম
আজিজুল ইসলামঃ || বিএমএফ টেলিভিশন
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারী হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ গুলো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে।কাগজে কলমে রয়েছে ১৭ চিকিৎসক, বাস্তবে ইউনিয়নে শূন্য।কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জুড়ে স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারী হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ গুলো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে।কাগজে কলমে রয়েছে ১৭ চিকিৎসক, বাস্তবে ইউনিয়নে শূন্য।কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জুড়ে স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা।
আজকের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে তুলে ধরা হলো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার করুণ অবস্থা।
প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা । ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৭ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন চিকিৎসক।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডাঃ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পোস্টিং থাকা এবং সদর উপজেলা থেকেই বেতন উত্তোলন করা হলেও কমপক্ষে ৩ জন মেডিকেল অফিসার বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। এতে করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১৪টি সাব-সেন্টার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে রয়েছে মাত্র ৮টি স্থাপনা। তাও আবার এই সাব-সেন্টারগুলোর কোনোটিতেই কোনো মেডিকেল অফিসার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন না।
অথচ সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এসব পদে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, একজন মেডিকেল অফিসারও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা দিতে উপস্থিত নেই।
স্বাস্থ্যখাতে সরকার লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করলেও তার সুফল পাচ্ছে না কেন জনগণ?
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ কামাল হোসেন জানান,“আমার সিভিল সার্জন অফিসেই কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। সদর উপজেলা থেকেই লোক নিয়ে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। লোকবল সংকট রয়েছে, তবে খুব দ্রুতই এই সংকট নিরসন হবে।”
ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই।”
বিভাগীয় কমিশনারের আশ্বাস:
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান দৈনিক দেশতথ্যকে জানান,
“খুব দ্রুতই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ হবে। তখন সাব-সেন্টারগুলোতে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিয়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”তিনি আরও বলেন,“কুষ্টিয়ায় পোস্টিং থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব। কোন আদেশের ভিত্তিতে তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন, তা যাচাই করা হবে।”