সুসিকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসবিরোধী মিলারকে চিফ অব স্টাফ করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেক্স। || বিএমএফ টেলিভিশন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চিফ অব স্টাফ সুসিওয়াইলসকে সরিয়ে এ দায়িত্ব দিয়েছেন স্টিফেন মিলারকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম কঠোর নীতির রূপকার হিসেবে পরিচিত মিলার এবার হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক নেতৃত্বে আসছেন।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মুখোমুখি হতে হবে ট্রাম্পকে। একই সঙ্গে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক কংগ্রেসনাল তদন্ত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অনুগত ও কট্টর নীতিনির্ধারক স্টিফেন মিলারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্টতই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মিলারকে চিফ অব স্টাফ করার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ নীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের (২০১৭-২০২১) একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর সুসি ওয়াইলসের অধীনে উপপ্রধান কর্মকর্তা বা ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
তবে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। বিশেষ করে অভিবাসননীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান পরিচালনায় মিলারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তার উদ্যোগেই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল।
এই লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের নজরদারি ও গ্রেফতারের আওতা আরও বাড়ান। এমনকি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসা অভিবাসীরাও অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্টিফেন মিলারকে নিজের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে সুসি ওয়াইলসের কাজেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সুসি ‘অসাধারণ কাজ’ করেছেন। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে নতুন দায়িত্ব কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সুসি ওয়াইলস। তবে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে থেকেই নিজের রাজনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তার জনসমর্থনও রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে আসে।
=বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর হোয়াইট হাউসকে আরও ‘আক্রমণাত্মক’ হতে হবে।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকেই হোয়াইট হাউসে সুসি ওয়াইলসের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।
হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি তাদেরই পুরস্কৃত করছেন, যারা তার প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত। তিনি নিজের পথ পরিবর্তন করছেন না।’