স্বামীর অবহেলায় পাঁচ কন্যাকে নিয়ে অসহায় জীবন, ইউএনওর তাৎক্ষণিক সহায়তায় পেলেন সেলাই মেশিন

রবিউল ইসলাম হৃদয় ময়মনসিংহ || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:৪৩, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্বামীর নির্যাতন, অবহেলা ও ভরণপোষণের অভাবে পাঁচ কন্যাশিশুকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিনা আক্তার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়েও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকেন না, স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজখবরও নেন না। এমনকি পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করছেন না। ফলে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছিলেন এই সংগ্রামী মা।

স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক উদ্যোগ নেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। তিনি বিনা আক্তারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান এবং তার জীবনসংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় ইউএনও তার পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কীভাবে তাকে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনার একপর্যায়ে বিনা আক্তার জানান, তিনি সেলাইয়ের কাজ জানেন। কিন্তু নিজের কোনো সেলাই মেশিন না থাকায় সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, একটি সেলাই মেশিন পেলে বাড়িতে বসেই বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি ও মেরামতের কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন। এতে অন্তত পাঁচ সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সংসারের দৈনন্দিন খরচের কিছুটা হলেও বহন করা সম্ভব হবে।

বিনা আক্তারের এই আবেদন শোনার পর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। তিনি কার্যালয়ের একজন কর্মচারীকে সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন সেলাই মেশিন কিনে আনার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেলাই মেশিনটি এনে ইউএনওর কার্যালয়েই বিনা আক্তারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অপ্রত্যাশিত এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিনা আক্তার। তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সেলাই মেশিন তার জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। এখন তিনি নিজের শ্রমে উপার্জন করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করবেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ইউএনওর মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের এমন জনবান্ধব ও মানবিক পদক্ষেপ সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি উপহার নয়, বরং একজন সংগ্রামী মায়ের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার নতুন পথের সূচনা।

সচেতন মহলের মতে, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের বাস্তবমুখী সহায়তা সাময়িক অনুদানের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। কারণ এটি একজন মানুষকে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করার সুযোগ করে দেয়। ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়