আজ লিপস্টিক দিবস: ঠোঁটের রঙে লুকিয়ে থাকা মজার ইতিহাস

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:১৯, বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বজুড়ে আজ (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে লিপস্টিক দিবস। সৌন্দর্যচর্চা, ফ্যাশন ও প্রসাধনী শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য উন্মোচন, মূল্যছাড় এবং প্রচারমূলক নানা আয়োজন করে থাকে।

লিপস্টিক দীর্ঘদিন ধরেই শুধু একটি প্রসাধনী নয় বরং আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও আত্মপ্রকাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন সাজের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করেন।

লিপস্টিক নিয়ে কিছু মজার তথ্য

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি লিপস্টিকের দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কারণ, সেটিতে বসানো হয়েছিল আসল হীরা। ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নারী ভোটাধিকারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক নারী লাল লিপস্টিক ব্যবহার করেছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও লিপস্টিকের উৎপাদন বন্ধ করতে চাননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। তার বিশ্বাস ছিল, এটি মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। ডে’জ অব দ্য ইয়ারের প্রতিবেদন বলছে, একজন নারী লিপস্টিকের পেছনে সারা জীবনে গড়ে দেড় হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন।

দিবসের জন্মকথা

আধুনিক অর্থে "লিপস্টিক ডে" উদযাপনের সূচনা খুব বেশি দিন আগের নয়। ২০১৬ সালে বিশ্বখ্যাত রূপচর্চা ব্র্যান্ড হুদা বিউটির প্রতিষ্ঠাতা মেকআপশিল্পী ও উদ্যোক্তা হুদা কাত্তান দিনটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন, যার লক্ষ্য ছিল রঙের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রকাশকে উৎসাহিত করা। তারপর থেকে দিনটি ক্রমেই সৌন্দর্য শিল্পের ক্যালেন্ডারে অন্যতম ব্যস্ত দিনে পরিণত হয়েছে।

লিপস্টিকের ইতিহাস

লিপস্টিকের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় নারীরা গুঁড়ো করা মূল্যবান পাথর দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। প্রাচীন মিসরে লাল ঠোঁট ছিল সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। সে সময় নারী-পুরুষ উভয়েই ঠোঁটে রঙ ব্যবহার করতেন। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, মিশরের বিখ্যাত রানি ক্লিওপেট্রাও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লাল রঙের ঠোঁটের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন।

প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও ঠোঁট রাঙানোর প্রচলন ছিল। সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন সমাজে এর জনপ্রিয়তায় ওঠানামা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

আধুনিক লিপস্টিকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয় ১৮৮৪ সালে। তখন এটি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় বিক্রি হতো। পরে ধাতব আবরণে লিপস্টিক তৈরি হলে ব্যবহার আরও সহজ হয়ে যায়।

চলচ্চিত্র, ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

সব রঙের মধ্যে লাল লিপস্টিক এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের মতে, লাল রং আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। তবে বর্তমানে গোলাপি, বাদামি, প্রবাল, বেগুনি এবং ত্বকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শেডের লিপস্টিকও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লিপস্টিক কেনার সময় শুধু রঙ নয়, পণ্যের মান ও উপাদানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বকের সঙ্গে মানানসই রঙ নির্বাচন, ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন লিপস্টিক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী এড়িয়ে চলা এবং অন্যের ব্যবহৃত লিপস্টিক ব্যবহার না করাই নিরাপদ। পাশাপাশি দিনের শেষে লিপস্টিক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় লিপস্টিক আজ কেবল সাজসজ্জার উপকরণ নয়; এটি ফ্যাশন, সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস শুধু একটি প্রসাধনীকে ঘিরে উদযাপন নয়, বরং সৌন্দর্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনেরও স্বীকৃতি।

কীভাবে উদযাপন করবেন

ন্যাশনাল লিপস্টিক ডে পালন করতে খুব বেশি আয়োজনের দরকার নেই। হয়তো অনেক দিন ধরে কিনব কিনব ভাবছেন, আজই কিনে ফেলতে পারেন নতুন একটি শেড। লাল, গোলাপি বা বাদামির বাইরে চাইলে নীল, বেগুনি কিংবা সবুজ রঙও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

আর যদি নতুন কিছু নাও কেনেন, তাহলে প্রিয় লিপস্টিক নিয়ে একটি হাসিমুখের সেলফিই হতে পারে আজকের দিনের সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়