ইন্ডাকশনের ডিসপ্লেতে ই০-ই৩, নষ্ট নাকি সতর্কবার্তা?
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন কুকারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত রান্না, কম ধোঁয়া এবং সহজ পরিষ্কারের সুবিধার কারণে এটি অনেক পরিবারের পছন্দের রান্নার যন্ত্র। তবে রান্নার সময় হঠাৎ ডিসপ্লেতে ই০, ই১, ই২ বা ই৩ লেখা ভেসে উঠলে অনেকেই মনে করেন, চুলাটি নষ্ট হয়ে গেছে। বাস্তবে এগুলো ইন্ডাকশন কুকারের এরর কোড, যা নির্দিষ্ট সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ই০ কোড। সাধারণত ইন্ডাকশনের ওপর উপযুক্ত পাত্র না থাকলে বা ব্যবহৃত পাত্রটি ইন্ডাকশন-উপযোগী না হলে এই সংকেত দেখা যায়। তাই লোহা বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের সমতল তলযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা উচিত।
ই১ কোড সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগ বা ভোল্টেজের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। প্লাগ, সকেট বা বিদ্যুতের ভোল্টেজে সমস্যা থাকলে এটি দেখা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অন্য সকেটে সংযোগ দিয়ে পরীক্ষা করা বা প্রয়োজন হলে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
রান্নার সময় যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে অনেক মডেলে ই২ কোড দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ একটানা ব্যবহার বা নিচের কুলিং ভেন্ট বন্ধ থাকলে এমনটি হতে পারে। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ চুলা বন্ধ রেখে ঠান্ডা হতে দেওয়া এবং বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ই৩ কোড সাধারণত অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা অভ্যন্তরীণ সার্কিট সমস্যার সংকেত দেয়। এ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কিছুক্ষণ পর আবার চালু করতে হবে। সমস্যা থেকে গেলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইন্ডাকশন কুকার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ভেজা পাত্র ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত ভারী হাঁড়ি না বসানো, সরাসরি পানি না ঢেলে পরিষ্কার করা এবং নিচের কুলিং ফ্যানের বাতাস চলাচলের পথ খোলা রাখা জরুরি।
অনেকেই এরর কোড দেখেই মনে করেন ইন্ডাকশন কুকার নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো ছোটখাটো সমস্যার সতর্কবার্তা। তবে একই কোড বারবার দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত কারিগরি সহায়তা নেওয়া উচিত।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ইন্ডাকশন কুকারের এই সংকেতগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়ানোর পাশাপাশি যন্ত্রটিও দীর্ঘদিন নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।