স্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে জীবনধারায় যেসব পরিবর্তন আনা জরুরি

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:৪৭, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

স্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ ঘটে, তবে এর ঝুঁকি দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের মতে, প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বর্তমানে শুধু বয়স্ক নয়, ৫৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও স্ট্রোকের হার বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে। উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন জরুরি।

ধূমপান ত্যাগ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, যা স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। এমনকি পরোক্ষ ধূমপানও হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শরীরচর্চার পরামর্শ দেন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা এমন ব্যায়াম করা উচিত, যাতে শরীরে ঘাম হয়। এতে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি সুস্থ থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।

এ ছাড়া কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দীর্ঘদিন উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিসে ভুগলে রক্তনালিতে ক্ষতি হয় এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের বদলে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

পাশাপাশি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। কম ঘুম রক্তচাপ বাড়াতে পারে, আবার অতিরিক্ত ঘুমও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হঠাৎ মাথা ঘোরা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়