নিরাপদ ও কার্যকর উপায়ে দ্রুত ওজন কমাতে চান?
ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন
অতিরিক্ত ওজন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যারও অন্যতম কারণ। অনেকেই দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ওজন কমাতে পারেন না। আবার কোনো নির্দিষ্ট চাকরি, পদোন্নতি কিংবা জরুরি অস্ত্রোপচারের আগে অল্প সময়ে ওজন কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমাতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে তুলনামূলক কম সময়েও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। সাধারণভাবে সুস্থ থেকে মাসে ৪–৫ কেজি ওজন কমানো সম্ভব হলেও, যদি এক মাসে ৭ কেজি বা তার বেশি ওজন কমানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিত পরিবর্তন আনুন
এক মাসে সাত কেজি বা তার বেশি ওজন কমানোর প্রথম শর্ত হলো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকালে পুষ্টিকর ও তুলনামূলক ভারী নাশতা, দুপুরে পরিমিত ভাত এবং রাতে রুটি বা হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুই বেলার মাঝখানে ক্ষুধা লাগলে ফলমূল খেতে পারেন। নিয়মিত ও সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সুষম খাবার গ্রহণ করুন
ওজন কমানোর অন্যতম প্রধান উপায় হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফলমূল, শাকসবজি এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন। ফাস্ট ফুড যতটা সম্ভব কম খান। দুই বেলার মাঝখানে ক্ষুধা লাগলে পপকর্ন, ফল বা ফলের জুস বেছে নিতে পারেন।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন এবং অযথা দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। তবে অতিরিক্ত ঘুম ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
দ্রুত ওজন কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এ সময় হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা কিংবা সাইকেল চালানো খুবই কার্যকর।
ব্যায়াম করতে জিমে যাওয়াই বাধ্যতামূলক নয়। ঘরের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও শরীরচর্চার অনেক সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ওজন কমানোর গতি বাড়ায়।
রাতে তাড়াতাড়ি খাবার খান
রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা আগে শেষ করুন। সম্ভব হলে রাত ৮টার মধ্যেই রাতের খাবার খেয়ে নিন। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। রাতে ক্ষুধা লাগলে ফলের জুস অথবা এক গ্লাস দুধ পান করতে পারেন।
খাবারের আগে পানি পান করুন
খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। এতে হজমে সহায়তা হয় এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে। যতটা সম্ভব বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং জাঙ্ক ফুড সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত খাবার পরিহার করুন
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর একটি। তাই দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
দিনজুড়ে নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। পাশাপাশি ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও পর্যাপ্ত পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি রাখুন।
চিনি থেকে দূরে থাকুন
ওজন কমাতে চাইলে খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দেওয়া জরুরি। চা, কফি বা দুধে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ কমবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
প্রতিদিন গ্রিন টি পান করুন
গ্রিন টিতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন চার কাপ গ্রিন টি এক সপ্তাহ পান করলে প্রায় ৪০০ গ্রাম ক্যালরি ক্ষয়ে সহায়তা করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি রাখতে পারেন।
প্রতিদিনের খাবারে রঙিন সালাদ রাখুন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি ও ফল দিয়ে তৈরি সালাদ রাখুন। চাইলে এতে টক দই মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সহায়ক।
দ্রুত ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুস্থ থাকা। অল্প সময়ে বেশি ওজন কমানোর চেষ্টা করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয়ই নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের সর্বোত্তম উপায়। ধৈর্য, নিয়ম এবং সচেতনতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করা সম্ভব।