টেলিকম নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৩১, রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫’ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

অংশীজনদের তীব্র আপত্তি এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অসম প্রতিযোগিতার আশঙ্কার প্রেক্ষিতেই এ সংশোধন আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন করে, যেখানে টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়।

শুরু থেকেই নীতিমালাটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোবাইল অপারেটররা চাইলে টাওয়ার কিংবা ফাইবার নেটওয়ার্কের ব্যবসায়ও যুক্ত হতে পারবে।

অন্যদিকে, টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন কেবল বা আন্তর্জাতিক পরিসেবার লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমানে টেলিকম খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্ব মোবাইল অপারেটরদের দখলে। নতুন নীতিমালায় বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের অংশীদার ছোট ব্রডব্যান্ড ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। গত ৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘একতরফা এই নীতিতে বড় কোম্পানিগুলো ছোটদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। প্রযুক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় ছোট কোম্পানিগুলো টিকে থাকতে পারবে না।’ বর্তমান সরকার সেই উদ্বেগ আমলে নিয়েই সংশোধনের কাজ শুরু করেছে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেন, নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ফাইবার আউটপুট দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার ইন্টারনেট সেবাদাতাদের হাতেই থাকতে হবে।

ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, বড় অপারেটররা সরাসরি না এসে ভিন্ন নামে অবকাঠামো ব্যবসায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা প্রতিরোধ করা জরুরি।

সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি ফাইবার ব্যবসায় যুক্ত হয়, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

রবির চিফ করপোরেট অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ঢালাও পর্যালোচনার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা জরুরি।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি ‘ক্লাস্টার’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় নীতিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করার কাজ করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়