ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা, নির্বাচনি প্রচারে এসে হতাশ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:০৫, রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে প্রচারের তাপে উত্তাল রাজ্য। শনিবার (১১ এপ্রিল) পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে এক নির্বাচনি সভায় গিয়ে কার্যত ফাঁকা মাঠের মুখোমুখি হতে হল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে। সভাস্থলে উপস্থিতির এই চিত্র ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জনসভা ও রোড শো ছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। সেই প্রেক্ষাপটেই রেখা গুপ্তর কর্মসূচিও নির্ধারিত ছিল। বেলার দিকে অন্ডাল বিমানবন্দরে নামার পর সোজা রানিগঞ্জের সভাস্থলে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দর্শকাসনের অধিকাংশ চেয়ারই খালি পড়ে রয়েছে। সামনের সারিতে হাতে গোনা কয়েকজন দলীয় কর্মী বসে থাকলেও পিছনের সারিগুলি প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা।

এই পরিস্থিতি স্পষ্টতই অস্বস্তিতে ফেলে দেয় মুখ্যমন্ত্রীকে। দীর্ঘ বক্তৃতার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই তিনি সভা শেষ করেন। বক্তব্যে তিনি রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেও শ্রোতার অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম, যা ভোটের আগে দলীয় প্রচারের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। রানিগঞ্জের পর গলসি বিধানসভার পানাগড়ে আরেকটি সভা করার কথা ছিল রেখার। তবে সেখানে সম্ভাব্য কম ভিড়ের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সভাস্থল পরিবর্তন করে বাজার সংলগ্ন রাস্তার ধারে আয়োজন করা হয় বলে দলীয় সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় সংগঠনের প্রস্তুতি এবং জনসংযোগ নিয়ে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাঠানো একজন মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এই ধরনের উপস্থিতি দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে জনসমর্থনের শক্তি প্রদর্শন যেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ছবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় অন্য যুক্তি দিচ্ছেন। তাদের মতে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি থাকায় অধিকাংশ কর্মী ও সমর্থক সেদিকেই ব্যস্ত ছিলেন। ফলে রেখার সভায় প্রত্যাশিত ভিড় হয়নি। তারা এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি বলেই দেখাতে চাইছেন।

তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা যথাযথভাবে সংগঠিত করা গেল না। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রতিটি সভা ও জনসমাগমের গুরুত্ব বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে রানিগঞ্জের এই ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

শনিবারের এই ফাঁকা সভা শুধু একটি দিনের ঘটনা নয়, বরং তা নির্বাচনি প্রচারের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়