কুষ্টিয়া ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে কথিত পীর শামীম গনপিটুনিতে নি*হত
আজিজুল ইসলামঃ || বিএমএফ টেলিভিশন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে এক কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। এসময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লী ও এলাকাবাসীরা আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় শামীম রেজা ওরফে (জাহাঙ্গীর) নামের ওই পীরের অনুসারীদের ও বেধড়ক মারধর মারপিট করা হয়। শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) স্থানীয়ভাবে ভণ্ড পীর হিসেবে পরিচিত,
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিৎ করেন।
হামলাকারীদে অভিযোগ এই ভন্ড পীর নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার নিয়ে আবারও পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম রেজার ইসলাম বিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
হামলাকারীদের অভিযোগ, তিনি নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব ও যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশ বাগানের দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতেন।
এছাড়াও, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী নিয়ম উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
ঘটনার দিন সকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এবং শামীম রেজা কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শামিম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে। সে ঢাকা থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।