পারিবারিক কলহ: বউয়ের মায়ের কামড়ে হাসপাতালে স্বামীর মা
মেহেরপুর প্রতিনিধি || বিএমএফ টেলিভিশন
পারিবারিক কলহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুত্রবধূর মায়ের (বউয়ের মা) খাদিজা খাতুনের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বরের মা (শাশুড়ি) শরিফা খাতুন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে এলাকায় এই 'কামড়াকাণ্ড' নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শরিফা খাতুনের ছেলে মাসুদ রানা মালদ্বীপ প্রবাসী। দীর্ঘ ১২ বছর পর গত দুই মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। পারিবারিক কলহের কারণে মাসুদ রানার স্ত্রী পারভিনা খাতুন তার মায়ের বাড়িতেই অবস্থান করতেন। পারভিনা দীর্ঘ ১২ বছর স্বামীর বাড়িতে না থাকা, শশুর শাশুড়ির সাথে মনোমালিন্য, স্বামী দেশে ফেরার পরেও বাড়িতে ফিরে না আসা এবং সংসার করতে না চাওয়ার কারণে মাসুদ রানা অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেন। বিয়ের খবরটি জানতে পেরে পারভীনা, তার মা খাদিজা খাতুন ও বড় ছেলেকে নিয়ে স্বামী মাসুদ রানার বাড়িতে আসে। এ সময় মাসুদের মা শরিফা খাতুনের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় তারা শরিফা খাতুনকে মারধর শুরু করে একপর্যায়ে খাদিজা খাতুন (বউয়ের মা) শরিফা খাতুনের (শাশুড়ি) হাতে এবং গালে সজোরে কামড় বসিয়ে দেন। এ সময় শরিফা খাতুনের নাতি ছেলে রাকিবুল তাদের বাধা দিতে গেলে রাকিবুলের অন্ডকোষ চেপে ধরে আহত করা হয়। এ সময় তারা ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণের চেইন ও একজোড়া স্বর্ণের চুড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে মাসুদ রানা স্ত্রী পারভিনা ও শাশুড়ি খাদিজা খাতুনকে কুলবাড়িয়া বাজারে আটক করে মারধর করে তার দুজনে আহত হন। আহত তিনজনই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এবিষয়ে শরিফা খাতুন বলেন, ছেলে বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই বউ পারভিনা তার মায়ের বাড়িতে থাকে। ১২ বছর পর গত দুই মাস আগে ছেলে বাড়িতে এসেছে তারপরও বৌ বাড়িতে আসেনি। সবদিক বিবেচনা করে ছেলে নিজেই অন্যত্র বিয়ে করেছে। শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ ছেলের বৌ, ছেলে ও তার শাশুড়ি বাড়িতে আসে। আমি তাদের বসতে বলি। এরপর পূর্বের বিষয় নিয়ে তারা গালাগালি ও বিভিন্ন বাজে কথা বলতে থাকে। তাদের কথার প্রতিবাদ করলে আমার ছেলের বড় ছেলে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে আমি তাকে শাষণ করতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে বৌমার মা আমার হাতে-গালে কামড় দিয়ে জখম করে। এসময় আমার নাতি ছেলে (মেয়ের ছেলে) রাকিবুল ঠেকাতে আসলে বৌমার মা পিছন দিয়ে তার অন্ডকোষ চেপে ধরলে সেও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমি রোজায় থাকার কারণে আমিও মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় তারা ঘরে থাকা তিন লক্ষ টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া হাতের চুড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পারভিনা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মাসুদ তার মায়ের কথামত চলে যেকারণে আমি দীর্ঘ ১২ বছর আমার মায়ের বাড়িতে থাকি। দেশে থাকা অবস্থায় মায়ের কথায় সে আমাকে মারধর করতো। গত দুই মাস আগে সে দেশে এসে বিয়ে করে। সে বিষয়ে জানতে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার মা আমাদের গালাগালি ও অনেক বাজে ভাষায় কথা বলেছে। মাসুদের সাথে দেখা না হওয়ায় আমার ইজিবাইকে করে ফিরে আসছিলাম এসময় কুলবাড়িয়া বাজারে আমাদের আটকে মাসুদ মারধর করে আমার ও আমার মায়ের মাথা ফাটিয়ে দেয়। তারা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও চুড়ি নেওয়ার যে কথা বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এবিষয়ে উভয়পক্ষের মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।