নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চালক গ্রেফতার
নড়াইল প্রতিনিধিঃ || বিএমএফ টেলিভিশন
নড়াইল সদরে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলী মোল্যা (৫০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। এরই অংশ হিসেবে রোববার দুপুরে যশোরের বেনাপোল ট্রাক টার্মিনাল থেকে ঘাতক ট্রাকটি (যশোর-ট-১১-৬০৪০) জব্দ করে নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে একই দিন বিকেলে অভিযুক্ত চালক সুজাত আলী মোল্যাকে গ্রেফতার করে র্যাব-৬।
গ্রেফতারকৃত সুজাত আলী মোল্যা নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মো. ছাইদুর রহমান ওরফে তহিদুর মোল্যার ছেলে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকার তানভীর ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সর্দার (৩০) ওই পাম্পের ম্যানেজার এবং পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে। আহত জিহাদুল ইসলাম একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা ও তানভীর ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. রবিউল ইসলাম প্রধান অভিযুক্ত করে রোববার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১২টার দিকে সুজাত আলী পাম্পে তেল নিতে এসে সিরিয়াল ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মী জিহাদুল তাকে লাইনে দাঁড়াতে বললে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি তাদের হত্যার হুমকিও দেন।
রাত ২টার দিকে পাম্পের তেল শেষ হয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সুজাত। পরে রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে নাহিদ ও জিহাদুল পাম্প থেকে বের হওয়ার সময় তাদের ওপর ট্রাক তুলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। জিহাদুলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হুমকি দিয়ে ট্রাকচালক সুজাত আলী আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।###