সাতক্ষীরায় ব্র্যাক-এর উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সোহারাফ হোসেন সৌরভ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও এর ফলে সৃষ্ট বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন কৌশল ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের সোনারগাঁ কমিউনিটি সেন্টার-এ ব্র্যাকের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরহাদ জামিলের সভাপতিত্বে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য, অফিসার   অমিত কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা টিবি ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ শাহীনুর রহমান।
কর্মশালায় কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার আসমা আক্তার ও হীরা মনি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগণ, সদর হাসপাতালের সিনিয়র নার্সবৃন্দ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর সদস্য, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ মোট ২২ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, তাপদাহ ও অস্বাভাবিক শীতপ্রবাহের প্রভাব এবং দুর্যোগকালীন সময়ে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ঝড় ও বন্যার সময় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বিশেষ করে সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এছাড়া গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পানিবাহিত রোগ, হাম, রুবেলা, পক্সজনিত সংক্রমণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের জরায়ু ও নাভিজনিত সংক্রমণ সমস্যার বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।


বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়