ইরানিদের নিজ দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানিয়েছে সিআইএ

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:২২, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ তাদের এই প্রচারণায় ইরানি নাগরিকদের কাছ থেকে ‘আগ্রহী কোনো তথ্য’ বা সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করার উপযোগী ‘দক্ষতা’ থাকলে তা শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছে।

এই আহ্বানের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাটি কীভাবে গোপনে ও নিরাপদে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে, তার বিস্তারিত কৌশলও বাতলে দিয়েছে। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সামরিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

সিআইএ গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফার্সি ভাষায় একটি বিশেষ পোস্ট ও দুই মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে এই প্রচারণা শুরু করে। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘হ্যালো। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) আপনার কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে এবং আপনাকে সাহায্য করতে চায়।

আমাদের সাথে ভার্চুয়ালি নিরাপদে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো।’ ভিডিওতে ইরানিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসের কম্পিউটার বা ফোন এড়িয়ে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) অথবা টর (Tor) নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যোগাযোগের পর ব্রাউজিং হিস্ট্রি মুছে ফেলা এবং সহজে শনাক্ত করা যায় না এমন ডিভাইস ব্যবহারের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

এই ডিজিটাল প্রচারণার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন–এর তথ্যমতে, গতকাল অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত, যার প্রধান কাজ শত্রু সীমানায় ঢুকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা অচল করে দেওয়া।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পরমাণু আলোচনায় তেহরান যদি একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ না পৌঁছায়, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সবসময় খোলা থাকবে।

সিআইএ–এর এই নজিরবিহীন প্রচেষ্টাকে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সরকারবিরোধী ছাত্র বিক্ষোভ এবং সিআইএ–এর তথ্য সংগ্রহের এই ডিজিটাল প্রচারণা একই সঙ্গে চলায় দেশটিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সিআইএ–এর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ দাবি করেছেন যে, ইতিপূর্বে মান্দারিন এবং রুশ ভাষায় দেওয়া এ ধরনের প্রচারণাগুলো উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে, তেহরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশন স্কয়ারে’ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন রণতরীর ছবির নিচে লেখা রয়েছে, ‘যদি তুমি বাতাস বপন করো, তবে তুমি ঘূর্ণিঝড়ই কাটবে।’

সূত্র: এপি ও ইকোনোমিক টাইমস

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়