মেহেরপুরে বিচারিক আদালতের এজলাসে পাথর নিক্ষেপ।। আদালতে আতঙ্ক

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:৩৪, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

প্রতিদিনের মত সকাল থেকে চলছিলো এজলাসে বিচারিক কার্যক্রম।  হঠাৎ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা। আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আদালতে দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের সদস্যরা এ সময় পাথর নিক্ষেপকারী
অভিযুক্ত শরীফকে আটক করে। আটককৃত শরিফ  মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিচার কার্ষক্রম  চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। এতে এজলাসে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। যোগাযোগ করতে না পেরে এবং আদালতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এজলাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।

বিচারকের সামনে দেওয়া বক্তব্যে অভিযুক্ত আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি মরলে শহীদ হব। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্যসম্বলিত উস্কানিমূলক ও অস্পষ্ট লেখা পাওয়া গেছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে। এজলাস কক্ষের ভেতর থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরটিও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে মেহেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আদালতের এজলাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়