‘দলীয় অনিয়ম–অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:২৮, রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চল সংগঠকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। গত ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়কের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চল সংগঠকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। গত ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়কের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম এবং সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার কারণে তিনি দলের সঙ্গে আর কাজ করতে আগ্রহী নন।

তিনি লেখেন, প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও তার মূল লক্ষ্য ছিল ২০১৮ ও ২০২৪-এর আন্দোলনে সক্রিয় দেশপ্রেমিক তরুণ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা। কিন্তু দলীয় নেতৃত্বের হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণ সেই সম্ভাবনাকে ব্যাহত করেছে।

আরিফুল অভিযোগ করেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের অবদান নিজেদের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করেছেন এবং শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন। এতে জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্দোলনের মূল চেতনা বিবর্ণ হয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে আহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে অবিচার হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এখনো একটি বলয়ের দখলে, ফ্যাসিবাদী আমলারা বহাল রয়েছে, আর গণহত্যার বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরিফুল লেখেন, গত তিনটি নির্বাচন যেসব আমলারা ধ্বংস করেছে, তারাই এখনো নির্বাচনের প্রস্তুতি পরিচালনা করছে। মাফিয়া-নিযুক্ত রাষ্ট্রপতির অধীনেই সবকিছু চলছে। কিন্তু এ বিষয়ে দল কোনো অবস্থান নিচ্ছে না।

তিনি দলীয় নেতৃত্বকে দায়ী করে বলেন, অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্ব পালনেও দল পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

আরিফুল দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন এবং ‘মাফিয়ার পলায়ন’-এ তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, যা দলীয় নেতৃত্ব অবগত নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপারে উদাসীন। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন এমন একটি বলয়ের হাতে, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি ও অনুভূতিকে ধারণ করে না, বরং বিদ্বেষ লালন করে।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি। তারুণ্যের রাজনীতি পুনরায় জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে রাজপথে দেখা হবে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়