টানা ৫ দিন দেশজুড়ে সক্রিয় থাকতে পারে বৃষ্টিবলয়, ভারি বর্ষণের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:৩০, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

দেশজুড়ে ৩ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। টানা পাঁচদিন থাকতে পারে আংশিক বৃষ্টি বলয়। এসময়ে দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এটি আংশিক বৃষ্টি বলয় হওয়ায় সব জায়গায় সমান বর্ষণ না হয়ে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

বিডব্লিউওটি জানায়, বৃষ্টি বলয়টি চলাকালীন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি ধরনের সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি বলয়টি শুরুতে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে সক্রিয় হয়ে ৪ আগস্ট রাজশাহীতে এবং ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৫ ও ৬ আগস্ট পুরো দেশেই বৃষ্টিপাতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নিচু ও অতিবন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সময়ে এসব অঞ্চলে রোদের উপস্থিতি খুবই কম থাকবে এবং সার্বিকভাবে ৫ ও ৬ আগস্ট সারা দেশের আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলে মাঝে মাঝে রোদের দেখা মিলতে পারে।

বিভাগভিত্তিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান দিয়ে বিডব্লিউওটি জানায়, রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ১৭০ থেকে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনা বিভাগে ১৪০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যান বিভাগীয় গড় ধারণা মাত্র, জেলা পর্যায়ে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

সমুদ্রের পরিস্থিতির বিষয়ে তারা জানায়, এ সময়ে সাগরে কোনো বড় ধরনের সিস্টেম তৈরির সম্ভাবনা কম থাকলেও সঞ্চালনশীল গভীর মেঘমালার কারণে হঠাৎ দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের কারণে এ বৃষ্টি বলয়ের সময়সূচি ও শক্তিতে কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি বা পরিবর্তন আসতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়