বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা: চীনা ধনকুবেরকে কারাদণ্ড দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:২০, মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

একসময় চীনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এক বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা হয়। 

চীনের সাবেক এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ২০১৭ সালে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক হিসেবে পরিচিত করে তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী গড়ে তোলেন।

তবে পরে তিনি চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও অর্থপাচারের মতো একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।

নিউইয়র্কের বিচারক আনালিসা তোরেস রায়ে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশায় যারা গুওকে বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন চালিয়েছেন।

বিবিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গুওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।

মার্কিন আইনজীবী শন এস. বাকলি বিবিসিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া বৈধ সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বদলে গুও হাজারো মানুষের বিশ্বাসকে নিজের লোভ চরিতার্থ করতে ব্যবহার করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই রায় প্রমাণ করে, খ্যাতি বা সম্পদ কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না। যারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেদের ধনী করে তোলে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।’

চীন ছাড়ার আগে গুও একজন সফল আবাসন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দেশটির সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চান।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি চীনের কমিউনিস্ট সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত হন এবং প্রবাসী চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পের নামে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন। 

প্রসিকিউটরদের দাবি, এই অর্থ দিয়ে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের প্রাসাদ, ১০ লাখ ডলারের ল্যাম্বরগিনি এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল ইয়ট কিনেছিলেন।

তবে গুও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংগৃহীত অর্থ তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে।

গুওর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। তারা প্রায়ই একসঙ্গে অনলাইন ভিডিওতে উপস্থিত হতেন।

২০২০ সালে দুজন মিলে ‘নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না’ নামে একটি প্রচারণা শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের অবসান ঘটানো।


 

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়