ইরানের পর যে দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
ইরানের চলমান ইস্যু বা যুদ্ধ পরিস্থিতির সুরাহা করার পরই কিউবার দিকে নজর দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং খুব শিগগিরই দেশ দুটির মধ্যে হয় কোনো চুক্তি হবে অথবা ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্স
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কিউবার সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা চললেও ইরানের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দ্বীপরাষ্ট্রটি নিয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপে যাচ্ছেন না। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের দেশ দুটির মধ্যে দ্রুত কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা খুব শিগগিরই হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাব অথবা আমাদের যা করার তা-ই করব। আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু কিউবার আগে আমরা ইরানের বিষয়টি শেষ করতে যাচ্ছি।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং অভিবাসন নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই বার্তা সামনে এলো। ট্রাম্পের শাসনামলে কিউবার ওপর জ্বালানি আমদানিতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ অবরোধ আরোপ করায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্বীকার করেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে তার দেশ। এমন অবস্থায় সংঘাত থেকে দূরে সরে আসার লক্ষ্যে কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য নিরসনে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ কিউবার এই গল্পের ইতি শোনার জন্য ৫০ বছর ধরে অপেক্ষা করছে।’
এদিকে কিউবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও তীব্র হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত শনিবার ভোরে মোরন শহরে বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে, যার জেরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাবি করে আসছেন, কিউবা ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে। তিনি এমনকি কিউবা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার ওপর থেকে চাপ কমানোর বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে হাভানার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বা ছাড় দেওয়ার ওপর। অন্যদিকে কিউবার নেতৃত্ব সংলাপের কথা বললেও দেশটির স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার কিউবার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, দুই পক্ষই তাদের ‘দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য নিরসনে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’