সদালাপী চেয়ারম্যান: শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ...
বিএমএফ টেলিভিশন ডেস্ক || বিএমএফ টেলিভিশন
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ ছিলেন স্থানীয় রাজনীতি, সমাজসেবা এবং শিক্ষা বিস্তারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি আলামপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার আলো ছড়াতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা তাঁকে করে তুলেছে অত্র অঞ্চলের এক অবিসংবাদিত অভিভাবক।
শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ ১৯৪০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার সুদীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এলাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত ও সমাদৃত। পারিবারিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক আবহে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে প্রখর নেতৃত্বের গুণাবলী ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তিনি আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন এবং প্রথম মেয়াদে ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত গ্রামীণ জনপদ পুনর্গঠনে তাঁর এই মেয়াদটি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তিনি ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং আপৎকালীন খাদ্য সংকট মোকাবিলায় প্রশংসনীয় নেতৃত্ব দেন।
মাঝখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এলাকার মানুষের মনে তাঁর প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা একটুও কমেনি। ফলে দীর্ঘ দুই দশক পর, তিনি পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করার বিপুল ম্যান্ডেট পান। নব্বইয়ের দশকের শেষের এই মেয়াদে তিনি ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ) স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন এবং স্থানীয় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে অনন্য ভূমিকা রাখেন।
শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ কেবল একজন সফল রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্র অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আলামপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্বস্তিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনের ইতি টেনে শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আজকের এইদিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এই মহান মানুষটির জানাজায় অংশ নেন এবং তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
শেখ মঈনুদ্দিন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কীর্তি তাঁকে আলামপুর ইউনিয়নের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। একজন সদালাপী ও জনদরদী জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলামপুরের মানুষ তাঁকে চিরকাল পরম শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে ধারণ করবে।