রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে অগ্নিকাণ্ড:৪৩ ঘণ্টাতেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:১৯, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

​পাবনার ঐতিহ্যবাহী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতের এই আগুনে বায়েকের সার্ভার রুমসহ সংলগ্ন একাধিক কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বেশ কিছু কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাওনিয়ার বেজসহ পার্শ্ববর্তী দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক।

​ঘটনার প্রায় ৪৩ ঘণ্টা অতিক্রম করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা বেজে গেলেও প্রকল্পের বেশ কিছু স্পর্শকাতর পয়েন্টে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরগুলোতে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

​এই আকস্মিক দুর্ঘটনার পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের মূল কার্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিন এলাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক খাবার পানি ও সাধারণ ব্যবহারের পানির সংকট। এ তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানিশূন্যতায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

​ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই তারা প্রকল্প এলাকায় ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিসের ঈশ্বরদী স্টেশনের চারটি ইউনিট নিরলস চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে, তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে।

​প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বায়েকের কার্যালয়ের ভেতরের কম্পিউটার, ফাইলপত্র ও সার্ভারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

​দীর্ঘ সময় ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রূপপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত প্রাণকেন্দ্র সার্ভার রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, স্পর্শকাতর নথিপত্র ও আধুনিক ডিভাইসের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ড. কবীর হোসেনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি; এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য মেলেনি।

Share This Article

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়