পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে টেকনাফ স্থলবন্দর, নৌপ্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন

আলমগীর আকাশ টেকনাফ কক্সবাজার: || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ রাত ০৯:১৯, সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩৩
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে প্রায় ১১ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর। সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তার এই সফরে বন্দর ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরেছে তারা আশাবাদী খুব দ্রুত বন্দর খুলে দেওয়া হবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১:৩০ টার দিকে নৌ-প্রতিমন্ত্রী টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন স্থলবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তিনি ওয়্যারহাউসে পড়ে থাকা পণ্যসহ বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নৌপ্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন: “স্থলবন্দর পুনরায় সচল করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, কাস্টমস এবং এনবিআরসহ সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ব্যবসায়ী ও জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আজ থেকে এই বন্দর সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।”

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল। বর্তমানে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আর বড় কোনো বাধা নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যকার যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গত বছর এপ্রিলের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন দাবি ও আরাকান আর্মির বাধার মুখে জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আজ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ টেকনাফ বন্দরে আসেনি, যা শত শত আমদানিকারককে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী,  টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিন, টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়