মেহেরপুরে বিষ প্রয়োগে লাল শাক পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

মেহেরপুর প্রতিনিধি। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:২৫, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের পটল আলী। একই গ্রামের মানছুরা খাতুনের ১৪ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাল শাকের চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি লাল শাক উঠলে অন্তত  ৩০ হাজার টাকায় করতেন তিনি। এতে তার লাভ হতো প্রায় ২০ হাজার টাকা। ফসল ভালো হওয়ায় তা বিক্রি করে লাভবান হবার স্বপ্ন ছিলো তার দু’চোখ জুড়ে। তবে বিষ প্রয়োগ করে তার স্বপ্নের ফসল নষ্ট করে দেয়ায় এখন দু’চোখ জুড়ে শুধুই অন্ধকার। অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে রিয়াজুল ও আনিজুল এবং রিয়াজুলের ছেলে রিপন জমিতে বিষ প্রয়োগ করে সমস্ত লাল শাক পুড়িয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে শ্যামপুর স্কুলপাড়া কলোনী মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, লাল শাকের বীজ বপনের পর শাক গাছগুলো অনুমান ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হয়ে উঠেছে। বীষ প্রয়োগের ফলে অধিকাংশ গাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে আবার অনেক গাছ মাটিতে লুটিয়ে গেছে।

জানা গেছে, জমির দাগ নম্বর ভুল হবার কারণে অভিযুক্তরা ওই জমি নিজের বলে দাবি করে আসছে। যে কারণে অভিযুক্ত রিয়াজুল মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদালত জমির মালিক মানছুরা খাতুনের পক্ষে ডিগ্রি প্রদান করেন। এবিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও প্রশাসনের লোকজন মিমাংসার চেষ্টা করলেও কোন কাজ হয়নি।

এঘটনায় জমির মালিক মানছুরা খাতুন মেহেরপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামপুর মৌজায়, আরএস ২৮৩ নং খতিয়ান ভুক্ত, আরএস ৪০১০ নং দাগে ১৪ শতক সম্পত্তি মানছুরা খাতুনের নিজ নামীয় সম্পত্তি । তপশীল বর্নিত সম্পত্তি মানছুরা খাতুন প্রায় ৪০-৪৫ বছর যাবত ভোগ দখল করছেন। বর্তমান মৌসুমে ওই জমিত লাল শাক বীজ বপন করেছিলেন। ইতোমধ্যে শাক অনুমান ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হয়েও উঠেছে। রবিবার রাতে (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনিজুল, রিয়াজুল এবং রিপন

লাল শাকে বিষ প্রয়োগ করে লাল শাক বিনষ্ট করেছে। এর আগে সকাল ৮টার দিকে তারা জমি দখলে নেওয়া এবং তাদের বাঁধা দিলে হত্যার হুমকি 
প্রদান করে। 

এবিষয়ে রিয়াজুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, বিষ প্রয়োগ করে শাক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মানছুরা খাতুন নামের একজন অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়