মক্কায় হামলাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ বললেন মসজিদে নববী ও আল-হারামের ইমাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
সৌদি আরবের মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ ও মদিনার মসজিদে নববীর ইমামরা শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুতবায় মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টাকে "গুরুতর অপরাধ” এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে বর্ণনা করেন।
গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলাহ শুক্রবারের খুতবায় বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন সৌদি আরবের জন্য একটি রেড লাইন।
তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার লঙ্ঘন এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনের জন্য সরাসরি হুমকি।
শেখ বান্দার বালিলাহ বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তাঁর রাসুলের মসজিদকে লক্ষ্য করার সাহস দেখায়, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।'
তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্লোগানকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা দুই পবিত্র মসজিদের ভূমিকে আরও দৃঢ় করবে এবং সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্য আরও শক্তিশালী করবে।
সৌদি আরব মুসলমানদের কিবলা হিসেবে অটল থাকবে এবং বিদ্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা তাকে দুর্বল করতে পারবে না।
অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীতে দেওয়া খুতবায় শেখ আবদুলমোহসেন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনাকে হুমকির মুখে ফেলা হুতি হামলাগুলো এমন এক ধরনের সন্ত্রাসী প্রবণতার প্রতিফলন, যা মুসলমানদের রক্তপাতকে বৈধ মনে করে এবং নিরাপদে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে চায়।
এই বক্তব্য আসে মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করার কয়েক দিন পর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।
ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোট জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
জোটের দাবি, এটি মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছিল।
সূত্র: সৌদি গেজেট