ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

ডেস্ক রিপোর্ট। || বিএমএফ টেলিভিশন

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:৪৬, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছে সরকার। ফেল করা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে না দেখে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, অকৃতকার্য ও শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের জন্য বিশেষ নীতি তৈরি করা হচ্ছে। তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা খাতের সংস্কার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা দেখিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত ফল পেয়েছে।

তিনি জানান, অতীতে ফল ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। সরকার সেই ব্যবস্থা থেকে সরে এসে মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।

প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা বাড়ানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়—দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সূত্র: বাসস

Share This Article

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়