দুর্নীতির অভিযোগে বাড়িতে তল্লাশি, জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টার পদত্যাগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। || বিএমএফ টেলিভিশন
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার অভিযানের পর তার শীর্ষ উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে ইয়ারমাক দীর্ঘদিন জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে ক্রমবর্ধমান কেলেঙ্কারির চাপের মধ্যেই তার বাসায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার তল্লাশি শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। খবর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার অভিযানের পর তার শীর্ষ উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে ইয়ারমাক দীর্ঘদিন জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে ক্রমবর্ধমান কেলেঙ্কারির চাপের মধ্যেই তার বাসায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার তল্লাশি শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। খবর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের।
সম্প্রতি জেলেনস্কি তাকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কার্যালয়ের বাইরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া কঠোর ভাষণের মাধ্যমে জেলেনস্কি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা সবকিছু হারানোর ঝুঁকিতে আছি—নিজেদের, ইউক্রেন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ।’ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্নীতি তদন্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব রাষ্ট্রপতির অবস্থানেও পড়েছে। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের কূটনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পারমাণবিকবিদ্যুৎ সংস্থা এনারগোআটম–কে ঘিরে দুর্নীতি মামলার অংশ হিসেবে শুক্রবার ইয়ারমাকের বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী ব্যুরো এনএবিইউ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তল্লাশি তদন্তের অংশ হলেও এতে ইয়ারমাকের ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।
এনএবিইউ ও বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরদের কার্যালয় এসএপিও দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে এনারগোআটমের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বৃহৎ দুর্নীতি তদন্ত পরিচালনা করছে। আড়াই বছরের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় ১৫ মাসের তদন্ত ও প্রায় এক হাজার ঘণ্টার অডিও বিশ্লেষণের পর তদন্তকারীরা জানান, এনারগোআটমের বিভিন্ন চুক্তিতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রতিটি প্রকল্পের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো। এভাবে প্রায় একশ’ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, কোনো আনুষ্ঠানিক পদ বা ক্ষমতা ছাড়াই কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি বার্ষিক চারশ’ কোটি ইউরোর বেশি আয়কারী কৌশলগত এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করত।
তদন্তে উঠে এসেছে, রুশ হামলায় বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ স্থাপনা রক্ষায় দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকেও নিয়মিত ঘুষ নেওয়া হতো—যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এই পুরো দুর্নীতির নেপথ্য নায়ক হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে তিনি হলেন ব্যবসায়ী তিমুর মিনদিচ। তিনি রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।